কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ্য সভায় একজন প্রধান শিক্ষিকাকে ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এই অবমাননা সইতে না পেরে ওই শিক্ষিকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে সদর হাসপাতালে পৌছে দেন। বর্তমানে তিনি কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপবৃত্তি সংক্রান্ত এক সভায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সব শিক্ষক সভা বর্জন করেন।
জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সভা চলাকালে দুপুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ সব শিক্ষিকাকে এখন থেকে স্কুলে স্কার্ফ পরে যেতে বলেন। উপস্থিত প্রায় ৫০ জন শিক্ষিকা প্রতিবাদ করলে তখন আত্মারাম বিশ্বেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে উদ্দেশ্য করে শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘তুমি একটা বেয়াদব। বেশ্যাকে বেশ্যা বললে আকাশপানে চায়, ভদ্রকে বেশ্যা বললে মাটির দিকে চায়।’ উপস্থিত শিক্ষকরা এই অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি ৪ বার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯ বছরের চাকরিজীবনে তিনি এ রকম অশালীন বক্তব্য শোনেননি। শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ মাদকাসক্ত। দালাল চক্রের মাধ্যমে বদলি ও পোস্টিংয়ে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষিকাকে গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বেয়াদপি করার কারণে তাকে গালি দিয়েছি। আপনারা কত লিখতে পারেন লেখেন।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সমকাল, ২৬ জুন, ২০০৯
Filed under: Uncategorized | Tagged: কর্মকর্তা, প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষা
