বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ নিয়ে কুড়িগ্রামে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিবিসির প্যানেল নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকাতেও লেখালেখি হয়েছে।
কুড়িগ্রামবাসী আশাহত
দৈনিক বাংলার মানুষ
মঙ্গলবার ২০শে জানুয়ারী ২০০৮ প্রকাশিত বিশেষ সম্পাদকীয়-এ প্রকাশিত।
বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ
প্যানেল অতিথি নিয়ে বির্তক
গতকাল শনিবার কুড়িগ্রাম সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ, অনুষ্ঠানের মুল পর্ব শুরুর কিছুক্ষন আগে আমন্ত্রিত দর্শক স্রোতাদের কাছ থেকে মূল্যায়ন শুনতে চায় বিবিসি,র কর্তৃপক্ষ এ সময় কুড়িগ্রাম কলেজ রোডস্থ “আকরাম চশমা ঘরের” সত্বাধিকারী আকরাম হোসেন নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, কুড়িগ্রামে আয়োজিত বাংলাদেশ বিবিসি’র সংলাপ, এ প্যানেল ভুক্ত অতিথিদেরকে কি বিবিসি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যাচাই-বাচাই’র মাধ্যমে মনোনীত করেছে নাকী অন্যকারো মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে তাদেরকে প্যানেল আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? চশমা ব্যাবসায়ী আকরাম হোসেনের এই প্রশ্নকে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত সকল দর্শক-শ্রোতা জোরে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়।
বাংলাদেশ সংলাপ-এ আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে দু’ এক জন বাদে বাকিদের সর্ম্পকে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা নানান ধরনের কটু মন্তব্য করেছেন। আবার অনেককেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ও দেখা গেছে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন-বাংলাদেশ সংলাপ-এ আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন-কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজর জেনারেল(অব) আমসা আ-আমিন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক এমপি জাপা নেতা গোলাম হাবিব দুলাল, এনজিও জীবিকার পরিচালক মানিক চৌধুরী ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক প্রধান রেহানা বেগম।
বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ
কুড়িগ্রামবাসী আশাহত
দৈনিক বাংলার মানুষ
মঙ্গলবার ২২শে জানুয়ারী ২০০৮ প্রকাশিত বিশেষ সম্পাদকীয়-এ প্রকাশিত।
আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন সংবাদ সংস্থা বিবিসি কর্তৃক কুড়িগ্রামে আয়োজিত বাংলাদেশ সংলাপ নামের অনুষ্ঠাটি সর্ম্পকে আমাদের মাঝে যে উচু মাপের ধারণা ছিল সেই ইতিবাচক ধারণায় কালো দাগ বসেছে। বিশেষ করে বিবিস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সংলাপ-এর জন্য প্যানেল অতিথি হিসেবে যাদেরকে মনোনীত করেছে তাদেরকে ঘিরে নানাবিধ প্রশ্ন তুলেছে এখানকার সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষ। উত্থাপিত প্রশ্নগুলি হচ্ছে প্যানেল অতিথি হিসেবে কি আর কোন যোগ্য ব্যক্তি ছিল না? কী বিবিসি কর্তৃপক্ষ যোগ্য ব্যক্তিদের খুজে বের করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে? প্রশ্ন এখানেই থেমে থাকেনি। আরো প্রশ্ন ওঠেছে-বিবিসি কর্তৃপক্ষ কি কারো মিথ্যা প্ররোচনার ফাঁদে পা রাখায় এমনটি ঘটেছে?
এর পাশাপাশি দর্শক-শ্রোতাদের মনোনিত করার পক্রিয়াটিও ছিল প্রশ্ন
বিদ্ধ। কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ’ নামের অনুষ্ঠানটিতে সিংহভাগ দর্শক-শ্রোতা-ই ছিল অপরিপক্ক কম বয়সী ছেলে-মেয়ে। কুড়িগ্রামের সমস্যা, সম্ভবনা ও উন্নয়ন সর্ম্পকে ধারনা রাখে এমন দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল অতি নগন্য। এ সবের ফলে আয়োজিত বাংলাদেশ সংলাপ সর্ম্পকে কুড়িগ্রামবাসী যে আশা-আকাংখা পোষণ করেছিল তা অনেকাংশে পূরণ হয়নি। এ বিষয়টি আমাদেরকে দারুন ভাবে পীড়া দিয়েছে।
নানাবিধ কারণে কুড়িগ্রামে সাধারণত এতো বড় অনুষ্ঠান সচারচর হয় না। এ কারণে বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে কুড়িগ্রামে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের এক দিন আগেও এখানকার মানুষ ধারণা করেছিল-জাতীয় পর্যায় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের এক দিন আগেও এখাকার মানুষ ধারণা করেছিল-জাতীয় পর্যায় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের কোন যোগ্য নেতাকে কাছে পাবেন তারা। যাদের কাছে প্রাণ খুলে বলতে পারবে এখানকার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা। যার বদৌলতে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় উপর পড়তো ইতিবাচক প্রভাব। যে প্রভাব আগামীতে কুড়িগ্রামকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন বাংলাদেশ সংলাপ’র জন্য মনোনিত প্যানেল অতিথিদের তালিকা দেখার পর এ অঞ্চলের মানুষের ধারণা পাল্টে যায়।
গত রোবরার দৈনিক বাংলায় মানুষ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-কুড়িগ্রাম সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরুর কিছুক্ষণ আগে আমন্ত্রিত দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে মূল্যায়ন শুনতে চায় বিবিস কর্তৃপক্ষ। এ সময় কুড়িগ্রাম কলেজ রোডস্থ আকরাম চশমা ঘরের স্বত্বাধিকারী আকরাম হোসেন নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন কুড়িগ্রামে আয়োজিত বাংলাদেশ বিবিসি’র সংলাপ-এ প্যানেল ভুক্ত অতিথিদেরকে কী বিবিসি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যাচাই-বাছাই’র মাধ্যমে মনোনিত করেছে নাকী অন্যকারো মাধমে প্রলুব্ধ হয়ে তাদেরকে প্যানেল আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? চশমা ব্যাবসায়ী আকরাম হোসেনের এই প্রশ্নকে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত সকল দশক-শ্রোতা জোরে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়।
ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের এই সাহসী বক্তব্যেও জন্য আমরাও তাকে সাধুবাদ জানাই। কারণ তিনি-ই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সত্য কথাটি নির্ধিদ্বায় বলতে কোন ধরনের দ্বিধা করেননি। তিনি প্রমাণ করেছেন কুড়িগ্রামের মানুষরাও প্রকাশ্যে অস্বচ্ছতা ও অবিচারের প্রতিবাদ করতে জানে শুধুমাত্র ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন-ই নয় তার মতো আরো অনেকেই বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ সর্ম্পকে মোবাইল করে এবং স্ব-শরীরে আমাদের পত্রিকা অফিসে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গ ক্রমে বলা প্রয়োজন-বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপ-এ যারা প্যানেল অতিথি হিসেবে মনোনিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন-কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজর জেনারেল(অব)আমসা আ আমিন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ ও জাপা নেতা গোলাম হাবিব দুলাল, কুড়িগ্রাম ভিত্তিক এনজিও জীবিকা’র পরিচালক মানিক চৌধুরী ও বি এনপি’র অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক প্রধান-রেহনা বেগম আমরা মনে করি কুড়িগ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে এ সকল প্যানেল অতিথিদের নিবিড় সর্ম্পক নেই। ফলে তাদেরকে ঘিরে নেতীবাচক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
বিবিসি’র মতো ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা কুড়িগ্রামে যে পরিস্থিতির উদ্ভব করেছে তা মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হয়। এখানেই প্রশ্ন জাগে বিবিসি কর্তৃপক্ষ কি তাদের গৌরবময় ঐতিহ্যেও কথা ভুলে যেতে বসেছে ?
এ প্রসঙ্গে আমাদের মতামত হচ্ছে আগামীতে এ ধরনের যে কোন অনুষ্ঠানে অতিথি নির্ধারনে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়; সে দিকে আয়োজকদের তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। এর পাশাপাশি কারো দ্বারা প্রভাবান্তিত না হয়ে অনুষ্ঠানের শতভাগ মান নিশ্চিত কল্পে আয়োজকদের আন্তরিকতায় পরিচয় দিতে হবে।
Filed under: তথ্য, সচেতনতা, সাম্প্রতিক | Tagged: তথ্য, সচেতনতা, সাম্প্রতিক

