কুড়িগ্রামে ধাতব খনিজ বালির বিশাল মজুদ

ড. বদরূল ইমাম

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে অবস্থিত কুড়িগ্রাম জেলা। বিগত কয়েক বছর সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলোচিত হয়েছে মঙ্গাপীড়িত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর এলাকা হিসেবে। অথচ এ এলাকাতেই যে দেশের অন্যতম বৃহৎ খনিজ পদার্থের মজুদ লুকায়িত আছে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের বালিতে ধাতব খনিজ পদার্থের বিশাল মজুদ বিদ্যমান। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের কয়েকজন ভূতত্তবিদ বেশ কয়েক বছর আগে কুড়িগ্রামের এ খনিজ বালির অবস্থান আবিষ্কার করেন।এসব মূল্যবান খনিজ পদার্থের মধ্যে রিউটাইল, জিরকন, গারনেট, ইলমেনাইট, কায়ানাইট, মোনাজাইট ও ম্যাগনেটাইট অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে এ সম্পদের অর্থনৈতিক ও উত্তোলন-সম্ভাব্যতা যাচাই করার লক্ষ্যে অনুসন্ধানের অনুমতি প্রদান করে। বিশ্ববাজারে এসব খনিজ পদার্থের চাহিদা ও মূল্য বিপুল এবং আধুনিক যন্ত্র-সভ্যতার বহুবিধ শিল্প এসব খনিজ পদার্থ ছাড়া চলতে পারে না।

১৯৬২ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে আবিষ্কৃত একই ধরনের খনিজ বালির অবস্থান সম্পর্কে অনেকেই অবগত আছেন। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, কুড়িগ্রামে এ খনিজ বালির মজুদ কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকার মজুদের তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেশি। কেবল তা-ই নয়, কুড়িগ্রামের এই খনিজ বালির মজুদ বিশ্বে সেরা খনিজ বালির মজুদের সমতুল্য।

আরো পড়ুন »

নতুন ফতোয়া- স্কার্ফ পরিধান

গত ২৬ জুন তারিখে কুড়িগ্রামের এক সম্মানিত শিক্ষককে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ যে চরম অপমান করেছেন, তার প্রতিবাদে যায় যায় দিন পত্রিকায় একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। নিবন্ধটি লেখেন বিশিষ্ট শিক্ষক শাকিলা নাছরিন পাপিয়া। প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে নিবন্ধটি এখানে পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

অপমানে জর্জরিত ওই শিক্ষক এ দেশের পুরো শিক্ষক সমাজের প্রতীক। আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তা, যার মুখের বিষবান বাক্যে একজন শিক্ষক লজ্জায় অজ্ঞান হয়ে যান। এ দেশের প্রতিটি বিবেকবান শিক্ষিত সন্তানের উচিত তার শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার্থে ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধিক্কার জানানো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ধৃষ্টতা ওই শিক্ষা কর্মকর্তাই নয়, কেউ যেন দেখানোর সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শাকিলা নাছরিন পাপিয়া

গত ২৬ জুন যায়যায়দিন পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখলাম ‘ধৃষ্টতা’ শিরোনামে সংবাদটি। যে কোনো বিবেকবান মানুষ সংবাদটি পড়ে হতবাক হতে বাধ্য। একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, গোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
যে শিক্ষা কর্মকর্তা সব শিক্ষককে মাথায় স্কার্ফ পরার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি কি সরকার কর্তৃক পোশাক ডিজাইনার বা নারী সমাজে পর্দাপ্রথা প্রচলনের দায়িত্ব পেয়েছেন? শিক্ষার উন্নয়নের কর্মকা- পরিচালনার দায়িত্ব থাকে শিক্ষা কর্মকর্তার হাতে। শিক্ষকদের পোশাক নিয়ে ভেবে ভেবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলা তার জন্য নয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেশিরভাগ শিক্ষক মহিলা। ৬০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগের উল্লেখ থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে তা ৮০ শতাংশ। শিক্ষা কর্মকর্তা পুরুষ হওয়ার কারণে তিনি তার কর্মপরিধির বাইরে পুরুষত্ব ফলাতে গিয়ে তার অধীনে যতো স্কুল আছে, সব স্কুলের মহিলা শিক্ষকের মাথায় স্কার্ফ পরার নির্দেশ জারি করেন।
বিবেকবান শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তার অতীতের নানা দুর্নীতিতে মুখ বুজে থাকলেও এবার প্রতিবাদ জানান। মাথায় স্কার্ফ পরা সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাছাড়া মাথায় স্কার্ফ পরতেই হবে, সংবিধানে এমন কোনো নীতিমালা নেই। সুতরাং একজন শিক্ষা কর্মকর্তার এ দেশের সব শিক্ষকের মাথায় স্কার্ফ ওঠানোর মহান দায়িত্ব পালন করা আর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দেশের নানা স্থানে দোররা মারার ফতোয়া প্রদান করা কি সমান অপরাধ নয়?

আরো পড়ুন »

ধৃষ্টতা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে শিক্ষকদের সভায় এক প্রধান শিক্ষিকাকে অমার্জনীয় ভাষায় গালি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ। সব শিক্ষিকাকে স্কার্ফ পরে আসার মনগড়া নির্দেশের প্রতিবাদ করায় শিক্ষা কর্মকর্তা চরম এ ধৃষ্টতা দেখান। অপমান সইতে না পেরে জেলায় চারবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ওই শিক্ষিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে উপবৃত্তি সংক্রান্ত এক সভায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে  শিক্ষকরা সভা বর্জন করেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সভা চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ সব শিক্ষিকাকে এখন থেকে  স্কুলে স্কার্ফ পরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত প্রায় ৫০ জন শিক্ষিকা প্রতিবাদ করে উঠে দাঁড়ান। তখন আত্মারাম বিশ্বেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্দেশ করে শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘তুমি একটা বেয়াদব। বেশ্যাকে বেশ্যা বললে আকাশ পানে চায়। ভদ্রকে বেশ্যা বললে মাটির দিকে চায়।’ শিক্ষিকরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার প্রতিবাদে সভা বর্জন করেন। অন্যদিকে অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে ওই প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অবস্থা বেগতিক দেখে সভায় উপস্থিত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান নিজের গাড়িতে করে অসুস্থ শিক্ষিকাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন। বর্তমানে তিনি কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিকাল ৫টায় চিকিৎসাধীন শিক্ষিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে যায়যায়দিনকে বলেন, তিনি চারবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯ বছরের চাকরি জীবনে এ রকম অশালীন ভাষা শোনেননি।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। দালাল চক্রের মাধ্যমে বদলি ও পোস্টিংয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ প্রধান শিক্ষিকাকে গালি দেয়ার  কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বেয়াদবি করার কারণে তাকে গালি দিয়েছি। আপনারা কতো লিখতে পারেন লেখেন।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

সূত্র: যায় যায় দিন, ২৬ জুন, ২০০৯

শিক্ষা কর্মকর্তার অশ্লীল গালি শুনে অচেতন হলেন শিক্ষিকা

কুড়িগ্রাম অফিস

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসংক্রান্ত এক সভা চলছিল। এ সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ শিক্ষিকাদের এখন থেকে স্কার্ফ পরে স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে শিক্ষিকারা প্রতিবাদ করলে শিক্ষা কর্মকর্তা এক শিক্ষিকাকে ধমক দিয়ে অশ্লীল কিছু কথা বলেন। অপমান ও লজ্জায় ওই শিক্ষিকা অচেতন হয়ে পড়েন। ঘটনার প্রতিবাদে সব শিক্ষক সভা বর্জন করেন।

অচেতন শিক্ষিকাকে সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে। সভার ওই ঘটনার পর অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে নিজের গাড়িতে করে আরিফ আহমেদকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

শিক্ষিকাকে গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করে আরিফ আহমেদ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেয়াদপি করার কারণে তাঁকে গালি দিয়েছি। আপনারা কত লিখতে পারেন লেখেন।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ জুন, ২০০৯

অসভ্য

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ্য সভায় একজন প্রধান শিক্ষিকাকে ‘বেশ্যা’ বলে গালি দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এই অবমাননা সইতে না পেরে ওই শিক্ষিকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে সদর হাসপাতালে পৌছে দেন। বর্তমানে তিনি কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপবৃত্তি সংক্রান্ত এক সভায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সব শিক্ষক সভা বর্জন করেন।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সভা চলাকালে দুপুরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ সব শিক্ষিকাকে এখন থেকে স্কুলে স্কার্ফ পরে যেতে বলেন। উপস্থিত প্রায়  ৫০ জন শিক্ষিকা প্রতিবাদ করলে তখন আত্মারাম বিশ্বেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে উদ্দেশ্য করে শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘তুমি একটা বেয়াদব। বেশ্যাকে বেশ্যা বললে আকাশপানে চায়, ভদ্রকে বেশ্যা বললে মাটির দিকে চায়।’ উপস্থিত শিক্ষকরা এই অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি ৪ বার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯ বছরের চাকরিজীবনে তিনি এ রকম অশালীন বক্তব্য শোনেননি। শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ মাদকাসক্ত। দালাল চক্রের মাধ্যমে বদলি ও পোস্টিংয়ে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষিকাকে গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বেয়াদপি করার কারণে তাকে গালি দিয়েছি। আপনারা কত লিখতে পারেন লেখেন।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সমকাল, ২৬ জুন, ২০০৯